একে তো করোনা পরিস্থিতি, তার ওপর প্রচণ্ড গরম। এই গরমে নিজের কাজ সেরে কেবল খেতে বসেছেন ইমার্জেন্সি টিমের সদস্য ইমরান। এর মধ্যেই অক্সিজেনের জন্য কল এল। রোগীর অক্সিজেন লেভেল তখন নেমে ৮২–তে পৌঁছেছে। এমন অবস্থায় খাবার রেখেই দৌড়ে গেলেন ইমরান। একমুহূর্ত দেরি না করে ওই রোগীর কাছে পৌঁছে দিলেন অক্সিজেন সিলিন্ডার।
মহামারির এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এভাবেই প্রতিনিয়ত করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ‘রোটার্যাক্ট-কুয়া অক্সিজেন ব্যাংক’–এর ইমার্জেন্সি টিমের সদস্যরা। রাত আর দিনের মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই। ফোন পেলেই বিনা মূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন অক্সিজেন–যোদ্ধারা। নিজেরা করোনায় আক্রান্ত হবেন কি না, সেই খেয়ালও থাকছে না তাঁদের। আগে রোগীকে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হবে—এই মনোভাব কাজ করে তাঁদের মধ্যে।
রোটার্যাক্ট কুয়া অক্সিজেন ব্যাংকের ইমার্জেন্সি টিমের সদস্য দীন মুহাম্মাদ জুয়েল বলেন, ‘ফোন দিলেই আমরা সার্বক্ষণিক বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করছি। আমরা চেষ্টা করছি আর কোনো রোগী যেন অক্সিজেনের অভাবে মারা না যায়। আমরা ইমার্জেন্সি টিমের পাঁচজন ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন–সেবায় নিয়োজিত রয়েছি।’ আরেক সদস্য তানভীর আহমেদ বলেন, `অক্সিজেন সেবা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক রকম অভিজ্ঞতাও হচ্ছে, যেগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তানভীর আহমেদ বলেন, ‘এই তো কদিন আগে হঠাৎ আমাদের কাছে অক্সিজেনের জন্য কল এল। আমাদের ইমার্জেন্সি টিমও প্রস্তুত। টিমকে তারা নিজেরাই বলল, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসবে, তারা বের হয়ে গেছে। অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত ছিল তাদের। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই ফোন দিয়ে খবর দিল তার দাদু মারা গেছেন। তিনি বলেন, সারা দিন শেষে এসব খবর খুব কষ্ট দেয়।
খুবি রোটার্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি মাহামুদুল হাসান মিল্লাত বলেন, ‘খুলনা শহর বর্তমানে করোনার হটস্পট জোনে আছে। মানুষ অক্সিজেনের অভাবে যাতে মারা না যায়, এ কারণে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করে যাচ্ছি। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোনা রোগীদের কাছে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করছি।’