কমিটি গঠনের পরদিনই খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে খুলনায় ছাত্রদলে অসন্তোষ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একই সঙ্গে ওই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো। সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৩০ সদস্যের খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খান ইসমাইল হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ফিরোজ আহমেদের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাঁকে আম খেতে খেতে মাদক নিয়ে কথা বলতে, ছুরি হাতে কাউকে হত্যার হুমকি দিতে ও গালাগাল করতে দেখা যায়।
ভিডিও প্রসঙ্গে ফিরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মাটির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করি। লেখালেখি করি, আবৃত্তি করি। পথশিশুদের নাচ-গান শেখাই, খেতে দিই। মজার ছলে মানুষের সঙ্গে মিশে কখনো মাছ বিক্রি করি, কখনো পান বা কাপড় বিক্রি করি। এ রকম অনেক ভিডিও আমার ফেসবুকে আছে। এটিও তেমন একটি ফানি ভিডিও। এক ছোট ভাই মজার ছলে এটি করেছিল। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ডোপ টেস্ট করাতে রাজি। আমার শরীরে জীবনে একটা সিগারেটের ধোঁয়াও যায়নি।’