খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিফুজ্জামান কচির (৫৮) মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভেতরে জামায়াত নেতা ও আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুর রহীম এবং শিবির নেতা মাহবুব বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচিকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা–কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের ভেতরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও স্থানীয় এক জামায়াত নেতার ধাক্কায় তিনি পড়ে যান এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় মহিফুজ্জামান কচি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা ও আলিয়া মাদ্রাসার ওই অধ্যক্ষ সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি সম্ভবত গুরুতর শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হবে।
খুলনা–২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পরিদর্শন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমরা হারালাম। আমরা দাবি করছি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, এটি ‘পরিকল্পিত হামলা’র অংশ হতে পারে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ‘ওই কেন্দ্রে বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচির সঙ্গে ভোটারদের মতবিরোধ হয়। ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কেউ জড়িত নয়।’
খুলনা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ তিনি আরও জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন বলেন, ‘ওই সেন্টারে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে শুনেছি। এ সময়ে বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মারা যায়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।