ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর শহরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত চলছে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।
এর আগে গতকাল রাতে শৈলকুপা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র কাজী আশরাফুল আজম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান ইকুর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা শৈলকুপা ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার রাতে চৌরাস্তা মোড়ে ইকু সমর্থক উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান ভুট্টোকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে মেয়র সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক লীগের সভাপতি জাহিদুন্নবী কালু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এরই জেরে আজ বুধবার সকালে উভয় গ্রুপের কর্মী-সমর্থকেরা ঢাল-সড়কি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৪ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এরপর ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে শৈলকুপা শহরে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মেয়র সমর্থক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক লীগের সভাপতি জাহিদুন্নবী কালু বলেন, ‘আমি মেয়র সমর্থক হওয়ায় আমার মোটরসাইকেলসহ বাড়ির ভেতরে ঢুকে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষ। আমি এর বিচার চাই।’
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। যেকোনো পরিস্থিতি পুলিশ কঠোরভাবে দমন করবে।