মেয়ে খুকুমণির এক পায়ের জুতো বুকে জড়িয়ে কাঁদছিলেন আর অন্য পায়ের জুতো খুঁজছিল বাবা শাহিন হোসেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাইকে বলছিলেন মেয়ের শেষ স্মৃতি চিহ্ন আরেকটি জুতো খুঁজে দিতে। এমন দৃশ্যে জলে ভারী হয়ে উঠে সবার চোখ।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার সময় কোটচাঁদপুর পৌর কাশিপুর ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়কের দুর্ঘটনাস্থলে দেখা যায় এ দৃশ্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর পৌর কাশিপুর ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়কে লেগুনা ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। ওই ভ্যানের যাত্রী ছিল সাত বছরের শিশু খুকুমণি। সে কালিগঞ্জ উপজেলার শাহিন হোসেনের মেয়ে। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।
স্থানীয় ও নিহত শিশুর পরিবার জানায়, ওই দিন বিকেলেই খুকুমণির দাফন সম্পন্ন হয়। সন্তান হারানোর শোকে কাতর বাবা শুক্রবার সকালে কোটচাঁদপুরের দুর্ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনাস্থলে এসে খুঁজে পান মেয়ে এক পায়ের একটি জুতো। সেটি বুকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকেন।
শাহিন হোসেন বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান। ছেলে জিহাদ হোসেন (১০) আর মেয়ে সারিকা (খুকুমণি)। স্কুল ছুটি থাকায় সে কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী গ্রামের নানির বাড়িতে এসেছিল। বৃহস্পতিবার ঘটে গেল এ দুর্ঘটনা।’
এরপর তিনি আর কিছু না বলে আবারও কাঁদতে লাগলেন আর মেয়ের পায়ের আরেকটি জুতো খুঁজছিলেন বাবা শাহিন।
অন্যদিকে একই অবস্থা চলছিল এলাঙ্গী খুকুমণির নানির বাড়িতে। ওখানেও দেখা যায় খুকুমণির মাকে কাঁদতে আর বারবার অচেতন হতে।