কোটচাঁদপুরে পৌর টোল আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিহত আক্তারুল ইসলামের বাবা আবু তালেব বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কোটচাঁদপুর পৌরসভার টোল আদায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ডন পক্ষের দুজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হন। নিহতরা হলেন এলাঙ্গী গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আক্তারুল ইসলাম (১৯) ও কোটচাঁদপুর তালমিলপাড়ার ফিরোজ হোসেনের ছেলে জীবন হোসেন (২২)। আর আহত সাব্বির হোসেন কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর গ্রামের নজির মালিতার ছেলে। আশরাফুল ইসলাম গ্রুপে আহত হন সোহাগ হোসেন। তিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভার মালাকারপাড়ার দাউদ হোসেনের ছেলে।
আবু তালেব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে, আর যারা এর সঙ্গে জড়িত, প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
সংঘর্ষের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে, যার মধ্যে দুজন দুই গ্রুপের বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আশরাফুল গ্রুপের রয়েছে আব্বাস হোসেন আর ডন গ্রুপের ইমন আহম্মেদ ডন। ওই দিনের পর থেকে পুলিশের ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন অন্যরা।
এদিকে কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউই তাঁদের লোক নয় বলে দাবি করেছেন।
পৌরসভার মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘এখানে আমার বলে কোনো লোক নাই, পৌরসভার পক্ষ থেকে যাদের টোল আদায় করতে দেওয়া হয়েছে, তারা তুলতে আসলে অপর গ্রুপ তাদের ধাওয়া করেছে।’
তাঁদের কোনো দলীয় পরিচয় আছে কি না, জানতে চাইলে সেলিম বলেন, ‘হ্যাঁ, এদের মধ্যে কেউ যুবলীগ, কেউ ছাত্রলীগ করে। ঘটনাটি আশরাফুল ও তাঁর লোকজন ঘটিয়েছে।’
অন্যদিকে শাহাজান আলী বলেন, ‘আমি কোনো গ্রুপ রাজনীতি করি না। আর তারা কাদের লোক ছিল, আর কোন গ্রুপ করত, তা কোটচাঁদপুরবাসী জানে।’
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় আক্তারের বাবা আবু তালেব বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় আটজনকে এজাহারনামীয় ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরেকটা মামলা হবে। যার বাদী হবেন সোহাগের বাবা। ওই মামলারও প্রস্তুতি চলছে।’