ঝিনাইদহে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) রোগপ্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (টিকা) সংকট দেখা দিয়েছে। সদরসহ জেলার পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। চিকিৎসকেরা রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরামর্শ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে জেলার ফার্মেসিগুলোতেও এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিনে নিতে হচ্ছে রোগীদের, যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে কবে ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ থেকে ফুরিয়ে যায় র্যাবিসের ভ্যাকসিন সরবরাহ। ফলে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে শরীরে প্রয়োগ করতে হচ্ছে রোগীদের। সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৪০-১৫০ জন রোগী এই ভ্যাকসিন নিতে আসেন। তবে সরকারি সরবরাহ না থাকায় ২৭ তারিখের পর থেকেই বেসরকারি ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। হাসপাতালের মজুত শেষ হওয়ার দু-এক দিন পর থেকে জেলার ফার্মেসিতেও আর মিলছে না ভ্যাকসিনটি। ফলে অনেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে গেছেন। আবার অনেকে মেহেরপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে এনে শরীরে প্রয়োগ করছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কুকুর বিড়াল আঁচড়ানো-কামড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাবিসের ভ্যাকসিন নিতে হয়।
জেলার অন্যান্য হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২৩ দিন নেই ভ্যাকসিনটির সরবরাহ। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ জন রোগী আসেন এ ভ্যাকসিন নিতে। কোঁটচাদপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ মাস ধরে নেই সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন রোগী আসেন। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ দিন ধরে নেই ভ্যাকসিনের সরবরাহ। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন রোগী আসেন সেবা নিতে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৫ দিন নেই সরকারিভাবে বিনা মূল্যের ভ্যাকসিন সরবরাহ। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন রোগী আসেন ভ্যাকসিন নিতে। তবে সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ থেকে কিনে এনে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তাও খুবই কম বলে জানা গেছে।
সদর হাসপাতালের টিকাদান কক্ষে কাজ করা উমায়ের হোসেন বলেন, প্রতিদিন অনেক রোগী আসছে। ভ্যাকসিন কিনে আনতে পারলে তাঁকে দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেকেই ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে এখানে ভ্যাকসিনটি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের স্টোরে এই ভ্যাকসিনটি বর্তমানে মজুত নেই।