ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল ইসলাম নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলাকায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনার জেরে গতকাল রাতেই উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের ছয়টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং রনি নামের একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে লুটপাটের আতঙ্কে বাড়ির আসবাব সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়দের অনেকে। এখন সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিউলের বাবা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর আগে একটি বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এই মনোমালিন্যই পরে সময় রাজনৈতিক বিরোধে রূপ নেয়। সেই জেরেই এ ঘটনা।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রবিউল ইসলামের সঙ্গে জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী আক্কাচ আলীর বিরোধ চলছিল। গতকাল বিকেলে হরিণাকুণ্ডু শহরের একতারা মোড়ের একটি গ্যারেজে ইজিবাইক রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলাকায় মসজিদে নামাজ পড়তে যান রবিউল। নামাজ পড়ে বের হলে ওই এলাকার চার-পাঁচজন যুবক তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর রবিউলের স্বজনেরা জোড়াপুকুরিয়া গ্রামে আক্কাচ আলীর বাড়িসহ ছয়টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় আক্কাচ আলী ভাগনে রনিকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
আজ শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে পুলিশ। গ্রামবাসী লুটপাটের ভয়ে বাড়ি থেকে আসবাব অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
বাড়ির আসবাব ভ্যান গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের সাত্তার মন্ডলের পুত্রবধূ সোনিয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের গ্রামে একটা খুন হয়েছে। অনেক বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হয়তো লুটপাট শুরু হতে পারে। এ জন্য আমার স্বামী বাড়ি আসেনি। শুধু আমি বাড়ির মালামাল অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছি।’
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় দুটি সামাজিক পক্ষ রয়েছে। রবিউল ইসলাম একটির সমর্থক। বিরোধের কারণেই এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে জোড়াপুকুরিয়া গ্রামে কোনো লুটপাট হয়নি। ভয়ে অনেকেই তাঁদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।’
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, ছয়টি বাড়ির কিছু ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাকি বাড়িগুলোর তথ্য অনুসন্ধান চলছে।