হোম > সারা দেশ > ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান

আরিফ রহমান, ঝালকাঠি

কালবৈশাখীতে ফসলের ক্ষতি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝালকাঠি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত কালবৈশাখী ও টানা বৃষ্টিতে ধানখেত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কোথাও আধা পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও পুরো খেত পানির নিচে ডুবে আছে। যে কারণে লাভের বদলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকদের।

আজ বৃহস্পতিবার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ধানখেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে এবং ঝড়ে ধানগাছ হেলে পড়ায় কৃষকেরা ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯২ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বছর শুরু থেকেই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চাপে ছিলেন। জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক কৃষক বেশি দামে ডিজেল কিনে চাষাবাদ চালাতে বাধ্য হন। এর মধ্যে ঝড়বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তাঁদের ক্ষতি আরও গভীর হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নতুল্লাবাদ ইউনিয়নের হরিপাশা গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম হাওলাদার বলেন, ‘ব্রি ধান-৭৪ জাতের ১৬০ শতক এবং হাইব্রিড ময়না ও টিয়া জাতের ১২০ শতক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে ধানগাছ ভেঙে পড়ায় ফসল ঘরে তোলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বছর উৎপাদন খরচ বেশি ছিল, তার ওপর ডিজেলের সংকট ছিল। এখন পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন বলেন, ‘৫৫০ শতক জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন সব পানির নিচে। ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না।’

কালবৈশাখীতে ফসলের ক্ষতি। ছবি: আজকের পত্রিকা

একই উপজেলার পরমপাশা গ্রামের কৃষক সবুজ খান বলেন, ‘চার কুড়া জমির ধান ঝড়ে শুয়ে গেছে, অনেক জায়গা পানির নিচে চলে গেছে। এ বছর খরচ বেশি ছিল, এখন পুরোটা ক্ষতি হয়ে গেল।’

ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদ বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিপক্ব ধান দ্রুত কেটে ফেলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, জেলায় বর্তমানে ৯টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। যেসব ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে বড় সমস্যা হবে না, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে এনসিপির অফিস, উদ্বোধনে এমপি মিতু ও হাদির বোন

বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৫

রাজাপুরে ইজিবাইক উল্টে প্রাণ গেল শিশুর

নলছিটিতে প্রায় সোয়া ৩ কেজি গাঁজাসহ ২ কারবারি আটক

ঝালকাঠিতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে স্পিডবোট দুর্ঘটনা, ইউএনওসহ আহত ৯

ঝালকাঠি কারাগারে অসুস্থ, হাসপাতালে নারী হাজতির মৃত্যু

ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জরিমানা

বিচারককে ধর্ষণ মামলার বাদী—‘আসামির সাজা হলে আমাকেও ফাঁসি দিতে হবে’

ঝালকাঠিতে ছাত্র-যুব প্রজন্ম লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ঘুষের অভিযোগ সাজিয়ে এএসআইকে ফাঁসানোর চেষ্টায় মামলা