পৌরসভার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেখে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন অনেকেই। অবশেষে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ঝালকাঠি পৌরসভার উদ্যোগে এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে ১১ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার পেলেন। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঝালকাঠি পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়।
‘মানবিক সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ঝালকাঠি পৌরসভা’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা ফিরোজ আলম।
গত ২৩ জুন ঝালকাঠি পৌরসভার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি মানবিক পোস্টের মাধ্যমে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আহ্বানে বলা হয়, আশপাশে কোনো অসহায়, অসচ্ছল, চলাফেরায় অক্ষম, শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি থাকলে, যিনি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হুইলচেয়ার কিনতে পারছেন না, তাঁর নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জানাতে।
পোস্টটি প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আবেদন আসে। অনেকেই পরিচিত দরিদ্র ও চলাফেরায় অক্ষম ব্যক্তিদের পক্ষে আবেদন করেন। পরে আবেদনকারীদের তথ্য সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১১ নারী-পুরুষকে নির্বাচন করা হয়। প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়।
হুইলচেয়ার পেয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন এলাকার বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হতো। হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য ছিল না। পৌরসভার এই সহায়তায় এখন আমার চলাফেরা অনেক সহজ হবে।'
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিকনা এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, `দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরেই পড়ে ছিলাম। জানালা দিয়ে শুধু বাইরের পৃথিবী দেখতাম। এখন হুইলচেয়ার পেয়েছি। আশা করছি, নিজে থেকে বাইরে বের হতে পারব। এই সহযোগিতা আমার জীবনকে অনেক সহজ করে দেবে।'
পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন বলেন, ‘পৌরসভার দায়িত্ব শুধু নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা নয়। সমাজের অসহায়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। ফেসবুকের মাধ্যমে আবেদন আহ্বানের ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের খুঁজে পাওয়া সহজ হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও মানবিক ও জনকল্যাণমূলক এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’