যশোরের মনিরামপুরে প্রতিবন্ধী স্বামীকে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নিহত ওই ব্যক্তির নাম আরিফুর রহমান (৮০)। তিনি উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী অভিযুক্ত শেফালি বেগমকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই কন্যাসন্তানকে রেখে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শেফালি বেগমকে বিয়ে করেন আরিফুর রহমান। তাঁদের দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফুর রহমান স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। গতকাল দুপুরে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে বাবার বাড়ি চলে যান ছেলের বউ। এ সময় ছেলের বউকে বাড়িতেই অবস্থান করতে অনুরোধ করেন আরিফুর। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আরিফুরকে মাথায় আঘাত করেন স্ত্রী শেফালি বেগম।
নিহত ব্যক্তির বড় জামাতা আইয়ুব আলী বলেন, ‘ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্বশুরের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। রাত ১১টার দিকে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। এসে দেখি লাশ বারান্দায় খাটের ওপর পড়ে আছে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুনসুর আলী বলেন, ‘আরিফুরের ছেলের বউ তাঁকে দেখভাল করতেন। তিনি শাশুড়ির ওপর রাগ করে ওই দিন দুপুরে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হলে আরিফুরকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন স্ত্রী শেফালি।’
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরও বলেন, ‘আরিফুর শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নির্যাতন করতেন স্ত্রী। কয়েক দিন আগে নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে শেফালি বেগমের প্রেমের সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারে কলহ শুরু হয়।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আজ সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।’