যশোরের মনিরামপুরে নিলামে কেনা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহর নদ খননের উত্তোলিত মাটি নিলামে কেনার পর তা বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মাগরিবের নামাজ শেষে মনিরামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় যশোর জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আহসান হাবিব লিটনসহ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত জামায়াত নেতা আহসান হাবিব লিটন বলেন, ‘নামাজ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।’
অন্যদিকে, মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগে তরকারি বাজারে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের সালিমুন হোসেন ও আল মামুনকে আহত করেন। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে তাঁদের দলের আরও ৮-১০ জন আহত হন।
এদিকে সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজারে ছাত্রদল কর্মী আসাদুজ্জামান সবুজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাধাঘাটা এলাকায় আনাস নামে এক শিবিরের কর্মী হামলায় আহত হন।
মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
সূত্র জানায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বৃহস্পতিবার চারটি পয়েন্টে নিলামের মাধ্যমে হরিহর নদ খননের মাটি বিক্রি করেন। পরে সেই মাটি বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।