হোম > সারা দেশ > যশোর

মনিরামপুর: নির্মাণকাজ শেষ না হতেই সড়কে ধস

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাঁওড়ের নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের মনিরামপুরে নির্মাণকাজ শেষ না হতে ঝাঁপা বাঁওড়ের নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বাঁওড়ের সেতুর উত্তর পাড়ে কোমলপুর অংশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ধসে দেবে যায়। এতে ঝাঁপা ও কোমলপুর দুই গ্রামের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

মনিরামপুরের ঝাঁপা-কোমলপুর বাজার সংযোগ সড়কে ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর জরাজীর্ণ একটি সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মিত হয়েছে গত বছরের মে মাসে। ১ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার ২১১ টাকা ব্যয়ে ১৩ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের তত্ত্বাবধানে। যার মধ্যে সেতুর দুই পাড়ে ৫২৩ মিটার রাস্তায় হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) ইটের সলিং বসাতে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

ঝিনাইদহ জেলার কাঞ্চননগর এলাকার নিশীত বসু নামের এক ঠিকাদার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ করেছেন। সেতুর নির্মাণকাজ শেষে ভারী বৃষ্টিতে বাঁওড়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় সাত মাস সংযোগ রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ ছিল। এরপর বৃষ্টির পানি কমে গেলে গত নভেম্বরের শেষ দিকে মাটি ফেলে সেতুর দুই পাশে সংযোগ রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার, যে কাজ শেষ হয়েছে মাসখানেক আগে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঝাঁপা বাঁওড়ের কোমলপুর বাজার ও ঝাঁপা বাজারের সংযোগ সড়কের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপরের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে সেখানে উঁচু করে সেতু নির্মাণ করায় আগের রাস্তা নিচু হয়ে যায়। যে রাস্তা বয়ে সেতুর ওপর ওঠা যাচ্ছিল না। ফলে সেতুর দুই পাশে মাটি ফেলে উঁচু করে রাস্তায় ইটের সলিং বসানো হয়েছে। মাটি সঠিকভাবে বসতে না দিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তা সলিং করে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ফলে ছোটখাটো যানবাহনসহ সাধারণ ভ্যান ইজিবাইকে করে পথচারীরা রাস্তায় চলাচল করছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক তদারকি না থাকায় ও ঠিকাদার দায়সারাভাবে রাস্তার কাজ শেষ করায় কোনো ধরনের ভারী বৃষ্টি ছাড়াই রাস্তা ধসে গেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কোমলপুর ওয়ার্ডের সদস্য খালেদুর রহমান টিটু বলেন, ‘বাঁওড়ের ভেতরে আগের রাস্তা মাটি ফেলে সেতু বরাবর উঁচু করে ইটের সলিং বসানো হয়েছে। মাটি বসার সুযোগ না দিয়ে সলিং বসিয়ে রাস্তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে রাস্তা ধসে গেছে। মাটির পরিবর্তে বালু ফেলে রাস্তা করলে এমনটি হয়তো হতো না।’

সেতুর কাজের ঠিকাদার নিশীত বসু বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। লোকসান দিয়ে সেতু ও রাস্তার কাজ করা হয়েছে। রাস্তা ধসে যাওয়ার কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। ধসে যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’

ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নির্মিত সেতু ও সংযোগ রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঝাঁপা বাঁওড়ের সেতুর সংযোগ রাস্তা ধসে যাওয়ার খবর পেয়েছি। রাস্তা ধসে যাওয়ার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। শনিবার (আজ) রাস্তা সংস্কারকাজ শুরু হবে।’

এ বিষয়ে জানতে মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হওলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

২৪ ঘণ্টা পার হলেও শার্শায় পল্লিচিকিৎসক হত্যায় গ্রেপ্তার নেই

যশোরে গ্রাম্য চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

যশোর শহরে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

‘১২ তারিখ আমাদের একটা ঈদের দিন চলে গেছে’

যুবকের পেটে মিলল ২২০০ ইয়াবা বড়ি

দেশে ফিরল পাচার হওয়া ২৮ শিশু

ইমিগ্রেশনে ধরা পড়ল হত্যা মামলার দুই আসামি

যশোরে ধানখেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

যশোর-সাতক্ষীরার ১০ আসন: অন্তঃকোন্দলে ‘ভরাডুবি’

যশোরে মধ্যরাতে পার্ক করা বাসে আগুন