হোম > সারা দেশ > যশোর

২৪০ ডিজিটের নম্বরে নাজেহাল গ্রাহক

­যশোর প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

যশোর শহরের চিত্রামোড়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) গ্রাহকসেবা কক্ষের ভেতরে ১০ জনের জটলা। সবার হাতেই এক টুকরো কাগজ। সেই কাগজে কারও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারও-বা বাসাবাড়ির লক হয়ে পড়া বিদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারের নাম্বার। গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা এই দৃশ্য দেখা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গত দুই-তিন মাস টাকা রিচার্জের পর তাদের মোবাইলে ৮০ থেকে শুরু করে ২৪০ ডিজিটের অস্বাভাবিক লম্বা টোকেন নম্বর আসছে। এত বড় ডিজিট মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল করছেন অনেকে, ফলে লক হয়ে যাচ্ছে মিটার। এতে তাঁদের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলার গ্রাহক পারভীনা বেগম বলেন, ‘গত রোববার স্থানীয় দোকান থেকে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করি। রিচার্জের নাম্বারে ২৪০ ডিজিটের টোকেন আসে। এত সংখ্যা কি একবারে চাপা যায়! তিনবার ২৪০ ডিজিটের টোকেন চাপতে ভুল হওয়াতে মিটার হয়ে গেছে লক।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) যশোর-১ এর আওতায় ২৩ হাজার ও যশোর-২ এর আওতায় ২৪ হাজার স্মার্ট প্রিপেইড বৈদ্যুতিক মিটার ব্যবহারকারী রয়েছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, আগের অ্যানালগ মিটারের তুলনায় প্রিপেইড পদ্ধতি মোটেও গ্রাহকবান্ধব নয়। মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা। অস্বাভাবিক লম্বা টোকেন নাম্বার মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল হয়ে যাচ্ছে। এতে মিটার লক হয়ে গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। মিটার সচল করতেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি রিচার্জের নামে অতিরিক্ত মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাটসহ আনুষঙ্গিক টাকা কর্তনের ঘটনায় রীতিমতো বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহকেরা।

শহরের লাল দিঘিরপাড় এলাকার গ্রাহক রবিউল ইসলাম বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ ফালতু সিস্টেম, বিড়ম্বনার শেষ নেই। গত পরশু আমার মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে ২২০ ডিজিটের টোকেন এসেছে। এত বড় ডিজিট চাপতে চাপতে নাজেহাল অবস্থা। দুইবার ভুল করার পর তিনবারে একজনের সহযোগিতা নিয়ে ইনস্টল করতে পেরেছি।’

শহরের বাসিন্দা ও সনাক যশোরের সভাপতি পাভেল চৌধুরী বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে বয়স্ক, স্বল্পশিক্ষিত এবং প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ মানুষ রয়েছেন। তাঁদের কথা বিবেচনা না করে হঠাৎ এত দীর্ঘ টোকেন চালু করায় গ্রাহক ভোগান্তি বেড়েছে।’

গ্রাহকদের এ ধরনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগও। যশোর ওজোপাডিকো-১ সহকারী প্রকৌশলী জয়ন্ত কুমার পাল বলেন, ‘প্রতিদিন এক শ থেকে দেড় শ গ্রাহক আসেন মিটার লক হয়ে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে। ৫১৯ টাকা আবেদন ফি দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আবারও মিটার লক আনলক করে দেওয়া হয়।’

যশোর-১ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এটি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। আবাসিক প্রিপেইড মিটারে ছয়টি ধাপে বিদ্যুৎ বিল হিসাব করা হয়। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। মিটারে এই নতুন মূল্যহার কার্যকর করতে রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে অতিরিক্ত টোকেন পাঠানো হচ্ছে। একবার সতর্কতার সঙ্গে টোকেনটি সঠিকভাবে রিচার্জ করলে মিটার নতুন ট্যারিফ বুঝতে পারবে। এরপর পরবর্তী রিচার্জ থেকে পুনরায় স্বাভাবিক টোকেন পাওয়া যাবে।’

ভারতে পাচার ৬ বাংলাদেশি নারীকে ট্রাভেল পারমিটে ফেরত

যশোরে একাধিক মামলার আসামিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা আশ্রয়ণের ঘরে বসছে মাদকের আড্ডা

বাজেটে শুল্ক বৃদ্ধি: বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ

মনিরামপুরে বনফুলসহ তিন খাদ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে অর্ধ লাখ টাকা জরিমানা

যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

দাবি পূরণের আশ্বাসে ৩ ঘণ্টা পর বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে শ্রমিকেরা, অচলাবস্থা বেনাপোল বন্দরে

বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে চালকের মৃত্যু

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি বেনাপোল দিয়ে ফেরত