গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়কের পাকাকরণের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। কাজের দায়িত্ব পাওয়া প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে বছরখানেকের মাথায় উধাও হয়ে যায়। চলতি বছর জানুয়ারিতে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক সংস্কারের কাজ পেলেও সাত মাসেও তারা কাজ শুরু করেনি। এতে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছে কয়েক গ্রামের মানুষ।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নালিয়াটেকি থেকে শুরু হয়ে ফাওগান বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান প্রকল্পের অর্থায়নে ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে ইলেকট্রো গ্লোব এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কের ৩৫ ভাগ কাজ করে ২০২৩ সালে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদার।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আবার সড়কের কাজের দরপত্র হয়। আমজাদ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণকাজ পায়। এবার সড়ক সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সাত মাসেও কাজ শুরু করেনি নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়ন নালিয়াটেকি থেকে শুরু হয়ে ফাওগান বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খোঁড়াখুঁড়ি করা। সড়কে ফেলা হয়েছে ইটের সুরকি, বালু। চার বছর ধরে ফেলে রাখা এসব সুরকি সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা সড়কে পানি জমে আছে।
সড়কটি দিয়ে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নালিয়াটেকি, রাজারামপুর, লক্ষ্মীপুর, ফাওগান, গজারিয়া, পাবুরিয়ারচালা, হালুকাইদসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করে।
রাজারামপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক রুবেল হোসেন বলেন, ভাঙা রাস্তায় যানবাহন কম চলার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।
ফাওগান গ্রামের বাসিন্দা সুমন শেখ বলেন, শুনেছি নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু কাজ তো শুরু হচ্ছে না।
জানতে চাইলে ইলেকট্রো গ্লোব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলী ইমরানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এদিকে সাত মাসেও সড়কের কাজ শুরু না করার ব্যাপারে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব। প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করব।
শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘ইলেকট্রো গ্লোব এন্টারপ্রাইজকে জরিমানা করা হয়েছে। সম্প্রতি সড়কটি আবার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে আমজাদ এন্টারপ্রাইজ। নতুন ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া আগেই নির্মাণকাজ শেষ হবে।