কালবৈশাখীর পর প্রায় দুই দিন পেরোলেও সরানো হয়নি বিদ্যুতের খুঁটি, মেরামত হয়নি বিদ্যুতের লাইন। এ অবস্থায় গত ৪৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে
গাজীপুরের শ্রীপুরের তিনটি গ্রাম। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
গত বুধবারের কালবৈশাখীতে গাছপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক লাইনের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ওই দিনই বিকেল ৪টা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ময়মনসিংহ পল্লী বিদুৎ সমিতি-২-এর অধীনে কাওরাইদ (সাব-জোনাল অফিস)। এতে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও গলদাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে। তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে এলাকাজুড়ে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষের। দূরদূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন অনেকেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে।
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘তিন দিন হলো কারেন্ট গেল, এখনো কারেন্ট আসার খবর নেই। খাবার পানির হাহাকার পড়েছে গ্রামজুড়ে। ফ্রিজের মাছ, মাংস নষ্ট হচ্ছে। শিশু-বৃদ্ধদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষা অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।’
গলদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, ‘ঘরে এক গ্লাসও খাবার পানি নেই। আশপাশে কোনো টিউবওয়েল নেই। তাই খাবার পানি খুবই সংকট। আজ শুক্রবার মানুষ যে গোসল করবে তার ব্যবস্থা নেই। একটা মসজিদেও অজুর পানি নেই।’
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা মনিরা বেগম বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমাদের এলাকায় কারেন্ট নেই। শিশুদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। মারাত্মক ভোগান্তি হচ্ছে আমাদের।’
ময়মনসিংহ পল্লী বিদুৎ সমিতি-২-এর কাওরাইদ (সাব-জোনাল অফিসের) ভারপ্রাপ্ত এজিএম মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার কালবৈশাখীতে গাছপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক সংযোগ লাইনে পড়ে এতে অনেক জায়গায় তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছে। কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।