গাজীপুরের শ্রীপুরে ৪০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকায় দুটি গ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সাবমার্সিবল পাম্পে পানি তোলা যাচ্ছে না। ফলে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে গ্রামজুড়ে। বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কালবৈশাখীতে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ক্ষতির কারণে এমন সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর ও জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর অধীনে কাওরাইদ (সাবজোনাল অফিস)। এতে গ্রামের শত শত মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ে।
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘৪০ ঘণ্টার বেশি সময় হলো কারেন্ট গেল। এখনো কারেন্ট আসার খবর নেই। খাওয়ার পানির হাহাকার পড়েছে গ্রামজুড়ে। ফ্রিজের মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে। শিশু-বৃদ্ধদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘ঘরে এক গ্লাসও খাওয়ার পানি নেই। আশপাশে কোনো টিউবওয়েল নেই। তাই পানির খুব সংকট। আজ শুক্রবার মানুষ যে গোসল করবে, তার ব্যবস্থা নেই। একটি মসজিদেও অজুর পানি ছিল না।’
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ খান বলেন, ‘৪০ ঘণ্টার বেশি সময় এলাকায় কারেন্ট নেই। শিশুদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ঢিলেঢালাভাবে কাজ করছে। এ জন্য এত সময় লাগছে।’
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাওরাইদ (সাবজোনাল অফিসের) এ জি এম মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘বুধবার কালবৈশাখীতে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে। এতে অনেক জায়গায় তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছে। আশা করছি, আজ রাতের মধ্যে বিদ্যুতের সংযোগ দিতে পারব।’