রাতভর যানজটে নাকাল হওয়ার পর গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকালে স্বস্তি ফিরেছে। তবে তুমুল বৃষ্টি যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বহুগুণ। তার ওপর পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুরের দেড় হাজার পোশাক কারখানাসহ প্রায় আড়াই হাজার কারখানায় একযোগে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে দুপুরের পর থেকে ঘরমুখী লাখো মানুষ একসঙ্গে বাসস্ট্যান্ড ও ট্রেন স্টেশনে ভিড় করেন। মহাসড়কে বাড়ে যানবাহনের চাপও। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়।
ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যায় চন্দ্রা পার হতে। বৃষ্টিতে এই দুর্ভোগ আরও বাড়ে। অনেক যাত্রীকে দেখা গেছে কাঙ্ক্ষিত গাড়ি না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যে যেতে। তবে রাতভর যানজটে নাকাল হওয়ার পর সকালে গাজীপুর অংশের মহাসড়কে স্বস্তি ফিরেছে। অবশ্য টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্ব পারে লম্বা যানজট এখনো রয়েছে।
সড়ক বিভাগ বলছে, চন্দ্রায় শেষ সময়ের যাত্রীরা গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ জন্য এখন যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি পরিবহন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
বগুড়া জেলার বাসিন্দা সাঈদ বলেন, ‘শেষ সময়ে এসে চার গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। একদিকে বৃষ্টিতে ভোগান্তি। অন্যদিকে সুযোগ বুঝে চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে বাসগুলো। ভোগান্তি আমাদের পিছু ছাড়ল না।’
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় ও গাড়ির চাপ অতিরিক্ত থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। সকাল থেকে স্বস্তি ফিরেছে। পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাধ্যমতো কাজ করছে। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে।