গাজীপুরের কালীগঞ্জে সুমি আক্তার (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মোশারফ মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে মোশারফ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার মাল্লা ও হাটখোলা গ্রাম থেকে সুমি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুমি কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মাল্লা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। প্রায় ১৮ বছর আগে হাটখোলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মোশারফ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এ দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই মো. সৈকত আলীর অভিযোগ, মোশারফ মিয়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই সুমিকে মারধর করতেন এবং তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
মো. সৈকত আলী বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়; নির্যাতন চালিয়ে তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়েছে। বিষপানের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুমি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও এর পেছনে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার সকালে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী বা স্বামীর পরিবারের কাউকে দেখা যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের ভাইয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ ও হত্যার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’