গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তৌফিক শেখের পরিবারকে স্বচ্ছল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে লায়লা স্টাইলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। আইন অনুযায়ী তাঁর সব দেনাপাওনাও দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে কারখানাটি।
আজ বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মিন্টু কুমার সাহা এসব কথা বলেন।
মিন্টু কুমার সাহা বলেন, ‘২ নভেম্বর বেলা ১টা পর্যন্ত আমাদের শ্রমিক ভাইবোনেরা সুন্দরভাবে কাজ করছিলেন। বাইরে থেকে দুষ্কৃতকারীরা ঢিল ছুড়লে কারখানা ছুটি ঘোষণা করি। এরপর সন্ধ্যার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অন্য মাধ্যমে জানতে পারি, এখান থেকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে তালহা নামের একটি কারখানার সামনে আমাদের কারখানার একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আমাদের কারখানা ছুটি হয়েছে ১টায়, খবরটি পাই সন্ধ্যার দিকে।’
মিন্টু কুমার সাহা আরও বলেন, পরের দিনও কিছু লোকজন এসে কারখানায় হামলা করে। লায়লা স্টাইলস একটি গ্রিন কারখানা এবং সেখানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত। কারখানা ছুটি হওয়ার পর কোনো শ্রমিক কোথায় যাচ্ছেন বা কী করছেন, তা জানা কঠিন এবং সেটি কারখানা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণেরও বিষয় নয়।
তৌফিক কারখানাটির কাটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন বলে জানান মিন্টু কুমার সাহা। তিনি বলেন, তৌফিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তৌফিক সাগর মার্কেট এলাকায় থাকতেন। তাঁর মরদেহ প্রথমে সেখানে আনা হয়। পরে মরদেহ গাইবান্ধায় নেওয়া হয়। তৌফিক যে বিভাগে কাজ করতেন, সেই বিভাগের ইনচার্জ কারখানার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব কাজ করছেন।
২ নভেম্বর শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুর সদর উপজেলার তালহা গার্মেন্টসের সামনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে মারধরের শিকার হন তৌফিক শেখ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ নভেম্বর ঢাকার শিন শিন জাপান হাসপাতালে তিনি মারা যান।