গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামে নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি কর্মী আব্দুল জলিল তোতা (৪০)। স্বজন হত্যার বিচার না পাওয়া এবং নিজের দলের নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আজ বৃহস্পতিবার তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।
আব্দুল জলিল তোতার দাবি, বারবার স্বজন হারিয়েও বিচার না পাওয়ায় তিনি রাজনীতির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। তাই তিনি আর কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল তোতা প্রথমে বিএনপির সমর্থক এবং পরে কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন। এছাড়া একটি নির্বাচনী বুথের দায়িত্বেও ছিলেন।
আব্দুল জলিল তোতা বলেন, `২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট বছরেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। আবার গত ২১ জুন মামাতো ভাই ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার পাব কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানো এবং বিচারহীনতার অভিজ্ঞতা আমাকে হতাশ করেছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চাই।”
প্রয়াত আবু বক্করের ছেলে আব্দুল জলিল তোতা আরও বলেন, `আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।'
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, “আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি বিএনপির কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি নেবে না।”