হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

‘আমার বাবুটা চিরদিনের জন্য আব্বু ডাকার মানুষটাকে হারাল’

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা

১১ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের স্ত্রী সেতু মনি। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘আমার বাবা-মাও খাসজমিতে ঘর করে থাকে। তৌফিকের বাবারও ঘরের জায়গা ছাড়া কিছু নাই। আমি এই ছোট বাবুকে নিয়ে কই যাব? কে আমার সন্তানের দায়িত্ব নেবে? তৌফিক বেঁচে থাকলে আমার বাবু সুখে থাকত। হায়রে, ‘আমার বাবুটা চিরদিনের জন্য আব্বু ডাকার মানুষটাকে হারাল।’

কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সেতু মনি (১৯)। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের স্ত্রী তিনি। স্বামীকে হারিয়ে ১১ মাসের ছেলে সিয়ামকে নিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছেন এই তরুণী।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার সিং জিং জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৌফিক। এর আগের দিন সোমবার পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আন্দোলন দমনকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি।

আজ বুধবার সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তৌফিককে দাফন করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত তবি খাঁর ছেলে। স্বামীর দাফন শেষে বাড়িতেই ছিলেন সেতু মনি। ছোট্ট সিয়ামকে কোলে নিয়ে বারবার কাঁদছিলেন তিনি।

কথা বলতে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে কাটানো শেষ মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণা করেন সেতু মনি। তিনি বলেন, ‘তোমরা হামাক ছাড়ি গেইল। অ্যালা হামাক কে দেখিবে গে। হামার সব শেষ হয়ে গেল। কে জানত, আমার আর আমার সন্তানের সঙ্গে শেষ দেখা হবে। ওই দিন সকালে বাবুটা কোলে নিয়ে মুখে-চোখে চুমা দিয়ে আদর করছিল। আমি রান্না করছিলাম। অফিসে যাওয়ার সময় বলে গেল, বাবুর জন্য দুধ কিনে আনমো। বাবুর দুধ আনল না। চোখ বন্ধ করে ঘুমে নিথর দেহটা আসল।’

সেতু মনি বলেন, ছেলে সিয়ামকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তৌফিকের। সন্তান যা খেতে পছন্দ করত, কাজ শেষে তা কিনে আনতেন তিনি। ছেলের ছোট ছোট আবদার পূরণ করতেই আনন্দ পেতেন। এখন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে কীভাবে বড় হবে সন্তান, সেই চিন্তাই তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

তৌফিকের বন্ধু সোহরাব জানান, চার বছর আগে সেতু মনির সঙ্গে বিয়ে হয় তৌফিকের। গাজীপুরের মিজ্জাপুর মাস্টারবাড়ি এলাকার লায়লা স্টাইল গার্মেন্টসে কাটিং বিভাগের লে-ম্যান হিসেবে কাজ করতেন তৌফিক। ২০১৯ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর অভাবের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পড়াশোনা ছেড়ে গাজীপুরে পাড়ি জমান তৌফিক। পোশাক কারখানায় কাজ করে পরিবার চালানোর পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেল নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার

পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু: গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, মরদেহ পৌঁছেছে গ্রামের বাড়িতে

জমি দখলে নিতে বিধবার খেতের ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ

ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকার পাটাতনে জন্ম নিল যমজ সন্তান

গাইবান্ধার চরাঞ্চল: ভুট্টা চাষে সার মিলছে না

গাইবান্ধায় ভূমি কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

ঋণের চাপ সইতে না পেরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, পকেটে মিলল চিরকুট

সুন্দরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

দুই কলেজের তিন শিক্ষার্থীই ফেল, একটিতে পাস নেই তিন বছর