ফেনীর সোনাগাজীতে ইয়াকুব নবী তারেক (২৬) নামের এক যুবককে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুনক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত ইয়াকুব নবী তারেক ওই এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহত তারেকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইয়াকুব নবী তারেক ইফতার করে মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। সেখানে একই বাড়ির সাঈদুর রহমান পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান।
পরে সাঈদুর রহমান, নাহিদ, শরীফ ও তাঁদের পরিবারের লোকজন মিলে তারেকের ওপর হামলা চালান। এ সময় তারেকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও তাঁর বাবা এগিয়ে এলেও তাঁদের সামনেই তাঁকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। তারেকের শরীর নিস্তব্ধ হয়ে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে তাঁরা চলে যান।
নিহত তারেকের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার এক সন্তানকে বিদেশে পাঠালাম। আরেক সন্তান তারেক, সে আমাদের দেখাশোনা করে। ইফতারের পর তাকে আমাদের বাড়ির ওয়াহিদুর রহমান ও তার সন্তান আবু সাঈদ, নাহিদ, শরীফ ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সবাই মিলে আমার সন্তানকে মারতে থাকে।’
কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি চিৎকার শুনে গিয়ে তাদের নিষেধ করলেও কোনো কথা না শুনে কোপাতে থাকে আর বলতে থাকে, ডাকাত মারতেছি। এলাকাবাসী আসতে থাকলে আমার ছেলেকে মেরে তারা চলে যায়। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার চাই। তারা জামায়াত করে, আমরা বিএনপি পরিবারের লোক। নির্বাচনের সময়ও তারা আমার ছেলেকে হুমকি দিয়েছিল।’
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন বলেন, বগাদানার গুনকে পারিবারিক শত্রুতার জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিক সুরতহালে জানা যায়, তার মাথায় ৬টি আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলাকারীরা সবাই পলাতক। পাশাপাশি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনীতে পাঠানো হয়েছে।