বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচির সমর্থনে ফেনীতে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭ টা) আটজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসিফ ইকবাল আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন–ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সদর উপজেলার বারাহীপুর এলাকার ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ (২০), সদর উপজেলার ফাজিলপুর কলাতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাইদুল ইসলাম (২০), পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে শিহাব উদ্দিন (২১), সোনাগাজীর চর মজলিশপুর মান্দারি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিব (২২), দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর জয়লস্কর এলাকার মো. শাহজাহানে ছেলে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সরোয়ার জাহান মাসুদ (২১) ও লক্ষ্মীপুর জেলার মালেকের ছেলে অটোরিকশা চালক সাইফুল (২৪)।
এ ছাড়া গুরুতর আহতাবস্থায় আরাফাত ও রবিন নামে দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের ঠিকানা জানা যায়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, বেলা দেড়টার দিকে শহরের ট্রাংক রোড থেকে দলবল নিয়ে শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক হয়ে মহিপাল যান আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। এ সময় সড়কে গুলি তাক করে সাংবাদিকদের একটি ব্যাংকের ভেতর তাড়া করে মোবাইল, প্রেস জ্যাকেট ও আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে মারধর করেন তাঁরা।
পরে মহিপাল এলাকায় পৌঁছালে ছাত্র–জনতার ওপর অতর্কিত গুলি ও হামলা চালান নেতা–কর্মীরা। একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের আরেকটি পক্ষ শহরের ইসলামপুর রোডে বিএনপি নেতা–কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ও হামলা করে।
আবদুল কাদের নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা প্রকাশ্যে গুলি নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আপাতত আর কিছু বলতে পারছি না।’