হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে ঈদের দিনে ১৭ বাড়ি ভাঙচুর-লুট, ছাত্রদল নেতাকে চূড়ান্ত বহিষ্কার

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সোহেল মুন্সি। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ ও মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ১৭টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সিকে (৩৬) চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল শাখার প্যাডে লিখিত এক পত্রে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই পত্রে স্বাক্ষর করেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শেখ এনামুল করিম। বহিষ্কার করা ছাত্রদল নেতা ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রামখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা এবং সংগঠনটির কোতোয়ালি থানা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চূড়ান্ত বহিষ্কার’ শিরোনামে লেখা ওই পত্রে বলা হয়েছে, ‘জনাব, সোহেল মুন্সি (কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক) আপনাকে দৃঢ়ভাবে জানানো যাচ্ছে যে আপনার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আপনার কার্যকলাপ সংগঠনের আদর্শ, ঐক্য ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।’

ওই পত্রে আরও বলা হয়, ‘ফলস্বরূপ ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সম্মানিত সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন (অনু) ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হলো। এই সিদ্ধান্ত আজ থেকে কার্যকর হবে।’

এই পত্রের শেষাংশে বলা হয়, ‘অতএব, পরবর্তীতে আপনার কোনো বক্তব্য, কার্যক্রম বা পরিচয়ের দায়ভার ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল বহন করবে না। সংগঠনের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত ও প্রকাশ করা হলো।’

বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন বলেন, ‘ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে ঈদের দিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সির সম্পৃক্ততার অভিযোগ আসে। পরবর্তীতে আমরা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, জেলা ছাত্রদল কোনো নেতার শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায় নেবে না। কাউকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতেও দেবে না।

তবে এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ঈদের দিন ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ ও মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে অন্তত ১৭টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই হামলায় ছাত্রদল নেতা সোহেল নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর যোগসাজশে আরও নেতৃত্ব দেন কানাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ইউপি সদস্য রফিকুল আলম খান এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন খান (৫৮)।

হামলায় তছনছ ১৭ বসতঘর, অভিযোগ ছাত্রদল-আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুরে ঈদের নামাজের পরেই দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

ফরিদপুরে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু

ফরিদপুরের ১৩ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন

ফরিদপুরে ধানখেতে মিলল সেলুনমালিকের মরদেহ

জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে জখম, হামলাকারীদের বাড়িঘর ভাঙচুর

ফরিদপুরে রাজু হত্যা: কিলিং মিশনে মুখোশ পরে অংশ নেয় ছোট ভাই

ফরিদপুরে বোর্ডিংয়ের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, নারী-পুরুষসহ আটক ১৯

ফরিদপুরে ৪০ পাম্পের অধিকাংশেই তেল নেই—জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলগেটে বরণ করলেন বিএনপির এমপি