ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির (৩৮) নামে এক যুবকের হাত-পায়ের রগ কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, পূর্বশত্রুতার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিহত পান্নু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে এবং তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী এলাকার সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানা-পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সালথা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহটি যদুনন্দী মৌজার একটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তাঁর দুই হাত-পায়ের রগ কাটাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করে জানান, মঙ্গলবার গ্রামের একটি গাছ কেটেছিল নিহত জামু ফকির। এই গাছকাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোক পুলিশ এনেছিল এবং সন্ধ্যায় থানায় ডেকে নিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকে আসার পথেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেন।
তবে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, তাঁকে থানায় ডেকে আনা হয়নি। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গতকাল ওই এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গাছ কেটেছিল জামু ফকির। তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফোন করে জানিয়েছিল। পরে তাকে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল এবং বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে ইউএনওর অনুমতিতে গাছ কাটার কথা বলে হয়েছিল।’
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) আল ফাহাদ জানান, মরদেহের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।