ফরিদপুর সদর সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুর সদর সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সাবেক সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়া (৬০), তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান (৩৭), নকলকারক মনোয়ার হোসেন (৪০), পাঠক মো. জাহিদ শেখ (৪১) ও মো. জিহাদ শেখ (৩৩)।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুদকের ফরিদপুর জেলার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম হোসেন।
গতকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে ফরিদপুরের দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দলিল নিবন্ধনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে ঘুষ না দিলে দলিল গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব, নানা অজুহাতে হয়রানি এবং কখনো দলিল ফেরত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সময়ে (২০১৭-১৮) অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বিপুল অর্থ আদায় করেন, যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় বিষয়টি অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করার অনুমোদন দেয়। সেই অনুযায়ী ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
ফরিদপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ ও সাক্ষ্য গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।