দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাগানে গাছ থেকে পাড়ার সময় যেসব লিচু ঝরে পড়ে সেগুলো কুড়ায় একদল শিশু। ওরা সবাই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। ঈদুল আজহার ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা প্রতিদিন ভোরে ছুটছে লিচুবাগানে। পরে তারা ঝরা লিচুর পসরা সাজিয়ে সড়কের ধারে বসে। তা থেকে তাদের বাড়তি আয় হয়।
দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পাচবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে ফুটপাতে বসেছে ঝরা লিচুর বাজার। একদল শিশু লিচু নিয়ে বসে আছে। ক্রেতা এলে তারা দরদাম করে ওই লিচু বিক্রি করছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় স্বল্প আয়ের মানুষ সেখান থেকে সস্তায় লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি ১০০ ঝরা লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
ভ্যানচালক মোন্নাফ আলী লিচু কিনতে এসেছেন শিশুদের কাছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাজারে লিচুর দাম বেশ চড়া। সে দামে লিচু কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। এখানে কম দামে ঝরা লিচু পাওয়া যায় শুনে লিচু কিনতে এসেছি।’
লিটন সরকার নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘যাতায়াতের পথে শিশুদের লিচুর বাজারটি আমার নজরে পড়েছে। দাম অনেক কম, তাই এখান থেকে বাচ্চাদের জন্য কিছু লিচু কিনলাম।’
মারুফা নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রাস্তার পাশে লিচুর পসরা নিয়ে বসেছে। সে জানায়, ‘প্রতিদিন লিচু কুড়িয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি করি। লিচু বিক্রির টাকা জমিয়ে রাখছি, তা দিয়ে স্কুলে টিফিন খরচ হবে। বন্ধুরা মিলে মজা করে খাব।’
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সবুজ ও জুয়েল বলে, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বাগানে পড়ে থাকা লিচু কুড়িয়ে এনে বিক্রি করি। ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি চলে না। বাগানে লিচু শেষ হলেই আমাদের আয় শেষ। এই টাকা জমিয়ে রাখি টিফিনের জন্য। অনেক সময় নিজের টুকিটাকি জিনিস কিনে নিই।’