রাজধানীর উত্তরা থেকে দুই চীনের নাগরিকসহ আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তার অপরজন বাংলাদেশি এক নারী।
তুরাগের দলিপাড়া পাকার মাথা সংলগ্ন সেক্টর ৩-এর ২০/এ নম্বর সড়কের ৩/এ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গতকাল সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসেন ও তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দুই চীনের নাগরিক জেন ফ্যান (৩৮) ও জিন সুচান (৩২) এবং বাংলাদেশি সুইটি আক্তার (২৯)।
ডিএমপির উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসেন বলেন, তুরাগের দলিপাড়া পাকার মাথা সংলগ্ন সেক্টর ৩-এর ২০/এ নম্বর সড়কের ৩/এ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে র্যাব-১ ও তুরাগ থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী এক তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়। তিনি তুরাগ থানায় ধর্ষণ ও মানব পাচার আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী আজকের পত্রিকাকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুইটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে সুইটি উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে তাঁকে আটকে রাখেন। সেখানে চীনের নাগরিক তাঁকে ধর্ষণ এবং বিদেশে পাচারের চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে তুরাগ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই চীনের নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার, ধর্ষণ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজন চীনা নাগরিক পলাতক রয়েছেন।’ তিনি বলেন, ’গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার সুইটি আক্তার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত মেয়েদের বিয়েসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসতেন। পরে তিনি গ্রেপ্তার হওয়া দুই চীনের নাগরিক ও পলাতক সদস্যদের সহযোগিতায় তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করতেন। ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনও করতেন তাঁরা।’