প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করার পরও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর বেশ কিছু অবৈধ হাট। এসব হাট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বসিয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তবে অবৈধ হলেও এসব হাটে তেমন অভিযান চালাচ্ছে না সিটি করপোরেশন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেশ কয়েক জায়গায় অননুমোদিত হাট দেখা গেছে। রায়েরবাজার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠ, নবোদয় বাজারের পেছনে বালুর মাঠ, মনসুরাবাদ শনিরবিল হাউজিং, আগারগাঁও ৬০ ফুট-সংলগ্ন জায়গা, শেরেবাংলা নগর থানা রোড, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা, কমিউনিটি সেন্টারের পাশের স্থান, মোহাম্মদপুরের সোনালী মাঠ, মিরপুর ১৪ নম্বর প্রধান সড়ক ও ভাষানটেক এলাকার সড়ক, মিরপুর ৬০ ফুট, মধ্য পীরেরবাগের জিয়া হায়দার সরণি, নটর ডেম কলেজের বিপরীতের স্থান, লালবাগ বেড়িবাঁধসহ অনেক জায়গায় নামে-বেনামে বহু অবৈধ হাট বসানো হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত হাটের তালিকায় এসবের নাম নেই। কিন্তু এসব কথিত হাটের বেশ কয়েকটির জন্যই আগেভাগে লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে প্রচার চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হাটের স্থানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে এরই মধ্যে গরু-ছাগল তোলাও হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার বরাদ্দ বাতিল হওয়া ‘সুরের ধারা’ স্কুলের জায়গায় বসানো হয়েছে এমন একটি অবৈধ পশুর হাট। বেশ কিছু গরু, ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে সেখানে। বাঁশের খুঁটি ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছাউনি। সেখানে দায়িত্বে থাকা একাধিক তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন যুবক এই হাট বসিয়েছেন। এটি বৈধ না অবৈধ, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। গরু নিয়ে আসা রাসেল নামের এক তরুণ বলেন, মানিকগঞ্জ থেকে এক ব্যক্তি তাঁর খামার থেকে এখানে গরু পাঠিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রামচন্দ্রপুর খালের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করে রেজওয়ানা চৌধুরীর স্কুলটির বরাদ্দ বাতিল করেছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যেসব হাটের ইজারা দিয়েছে, সেই তালিকায় এই হাট নেই।
অবৈধ হাটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘আমরা কোথাও অবৈধ হাট বসাতে দেব না। আমাদের টিম কাজ করছে, কোথাও অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
জাহেদুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে আগারগাঁওয়ের একটি অবৈধ হাটে অভিযান চালিয়েছে অঞ্চল-৫। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। হাট বসানোর সঙ্গে জড়িত তিনজনকে জরিমানাও করা হয়েছে।
তবে সেই হাট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁদের হাট বৈধ। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের তালিকায় এই হাট না থাকলেও খাস আদায় হিসেবে সিটি করপোরেশনকে টাকা পরিশোধ করা হবে।
গত শনিবার মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় অবৈধ হাটের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন গাবতলীসহ ২৩টি হাটের ইজারা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে উত্তরে ১২টি ও দক্ষিণে ১১টি। ঈদের দিনসহ মোট ৫ দিন অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা চলবে।
গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি উত্তর সিটির অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে, উত্তরার দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন স্লুইসগেট পর্যন্ত এলাকা, মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠ, খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন এলাকা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন এলাকা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফুট সড়কসংলগ্ন এলাকা, কাঁচকুড়া বাজারসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকা ও মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিমপাড়া এলাকা।
দক্ষিণের অস্থায়ী বৈধ পশুর হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্পসংলগ্ন রাস্তার অব্যবহৃত অংশ, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের মাঠ, আমুলিয়া মডেল টাউন, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশের জায়গা, বনশ্রী হাউজিংয়ের মোস্তমাঝি মোড়সংলগ্ন এলাকা, সিকদার মেডিকেল-সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত খালি জায়গা এবং গোলাপবাগ আউটার স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের জায়গা।