ঢাকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনে গ্রেপ্তার ৫১ শিক্ষার্থীকে ঈদের আগে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আজ সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
গ্রেপ্তার এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমার দুধের বাচ্চাকে জেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে, আমাদের দেখা করতেও দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার ছেলেকে মুক্তি দিন, ছেলেকে নিয়ে এক সঙ্গে ঈদ করতে চাই।’
গ্রেপ্তার আরেক শিক্ষার্থী নজরুলের ভাই সিফাত বলেন, ‘রাষ্ট্র কীভাবে ছাত্রদের নির্যাতন করছে। কী অন্যায় করেছিল তাঁরা। কেনো এমন অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। আমরা এখন ন্যায় বিচার চাই। আমার ভাইয়ের মুক্তি চাই।’
নাগরিক সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আটক ওই ছাত্ররা কি কাউকে খুন করেছে, বলৎকার করেছে, চাঁদাবাজি বা ছিনতাই করেছে? তাঁরা মানুষের অধিকারের কথা বলেছে, যৌক্তিক প্রতিবাদ করেছে। মানুষের অধিকারে কথা বলা যদি অপরাধ হয় আমিও সেই একই অপরাধে অপরাধী। আমাকেও গ্রেপ্তার করুন। ১৯৫২ সালে ছাত্ররা অধিকারের কথা বলেছে বলেই আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে। অনেক স্বৈরশাসক সরকারের পতন হয়েছে।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, মোদির আগমনের প্রতিবাদ জানিয়েছি। আপনারা দেখেছেন মতিঝিলে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কীভাবে পুলিশ হামলা করেছে, ছাত্রদের আটক করেছে। গ্রেপ্তার করে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা বাইরে আছে তাঁদের আতঙ্কে রাখা হচ্ছে, ভয়-ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। যেসব পুলিশ ছাত্র নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছে, সরকার তাঁদের নানা ভাবে পুরস্কৃত করছে।
নূরুল হকলেন, ‘ছাত্রদের পরিবারসহ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঈদের আগে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি না দিলে আমাদের ঈদ হবে গণভবনের সামনে।
ছাত্রদের মুক্তির দাবি জানিয়ে এসময় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।
পরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কারাবন্দি ছাত্রদের মুক্তির ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সঙ্গে দেখা করেন। ভিসি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর, জোনায়েদ সাকি, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র বিন ইয়ামিন মোল্লার বাবা রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।