নিজ বাসার শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি ও আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-২-এ দুজনের জামিন আবেদন নাকচ করেন।
আদালত আদেশে বলেন, বীথিই হচ্ছেন গৃহকর্মী নির্যাতনের প্রধান আসামি। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এটি একটি আলোচিত মামলা। এখনো তদন্তাধীন। এ মামলার আরেক আসামি সুফিয়া বেগমও জবানবন্দি দিয়ে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। এ পর্যায়ে উভয়ের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হলো।
বীথি ও সুফিয়ার পক্ষে জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদ গাজী, আনোয়ারুল কবীর বাবুল, ইদ্রিস আলী, শরিফুল ইসলাম এ সানাউল হক টিপু। জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আজকের পত্রিকাকে জানান।
এর আগে এ মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দুজনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করার পর তাঁদের পক্ষে আইনজীবী মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয় রোববার।
এ মামলার আসামি সাফিকুর রহমানকে গত ২৮ এপ্রিল জামিন দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে ৩ মে আরেক গৃহকর্মী রূপালীকে জামিন দেন আদালত।
১১ বছরের ওই গৃহকর্মীর বাবা হোটেল কর্মচারী গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে চারজনকেই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাফিকুরের স্ত্রী বীথি ও অন্য গৃহকর্মী সুফিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশুকে নির্যাতনের দায় স্বীকার করেন। সাফিকুর পুলিশের কাছে দায়ে স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুর দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে শিশু গৃহকর্মীর বাবার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে শিশুটির বাবা গত বছরের জুনে তাঁর মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর তাকে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে গৃহকর্মীর বাবাকে জানান, তাঁর মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান তার বাবা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই শিশুকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেন বীথি।
ওই গৃহকর্মীর বাবা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তাঁর মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিমানের এমডির স্ত্রী বীথি এর সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে ওই মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তার বাবা। শিশুটি তার বাবাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার পর বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়।