হোম > সারা দেশ > ঢাকা

পাঁচ পিকআপে আসে হামলাকারীরা, স্টুডিওর পর আশপাশেও চলে লুটপাট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের আশপাশেও হামলাকারীরা লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ভাঙচুর-লুটপাট চলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় তাঁরা আশপাশের বাড়িতে হামলা ও নির্মাণশ্রমিকদের টাকা, মোবাইল ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় বলেও জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ পান তাঁরা। তবে পুলিশের সংখ্যা কম হওয়ায় পিছু হটতে হয় তাদের। এরপর হামলাকারীরা একটি ফটক ভেঙে পালিয়ে যায়।

নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের পল্লব আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হামলাকারীরা পাঁচটা পিকআপে করে আসে। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তাঁরা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। হাউজিংয়ে প্রবেশের মুখে একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে ঢুকে লুটপাট করে। মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। আরও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে যায় তাঁরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর চালায়। আমাদের অফিসে হামলা চালায় এবং নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর করে। তাঁদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে যায়।’

রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সালমান মুক্তাদিরের পুরো স্টুডিওটি তছনছ করা হয়েছে। মেঝেতে পড়ে আছে বিভিন্ন গ্লাসের টুকরো, ভাঙা সোফা, বাদ্যযন্ত্র এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।

এ দিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ তাদের জমিতে যেতে পারছিল না। পরে ওই পক্ষের লোকজন সেখানে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

তিনজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ। জমির দখল ও বেদখলকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমরা এই ঘটনা তদন্ত করে দেখছি।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক তিনজন হলেন ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম এবং অপরজন মুন্না।

হামলার পর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওতে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তাঁর দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য দেশে এমন স্টুডিও খুব বেশি নেই।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন সালমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’

তবে তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতা বা কর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালমান বলেন, হামলায় স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা কাজ বন্ধ করবেন না। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিল্যাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’

স্টুডিওটি শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজ জড়িত বলেও জানান সালমান। তিনি বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’