ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় রাজধানীর উত্তরার মুগ্ধ মঞ্চে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্পের মেজর গাজী মেহেদী হাসান।
মেহেদী হাসান বলেন, গত দেড় বছর ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করে আসছে। এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্প অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান ও টহল পরিচালনা করছে। এতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হয়েছে।
মেজর মেহেদী হাসান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। নির্বাচনের দিন ভোটাররা যেন নিরাপদে বাড়ি থেকে কেন্দ্রে যেতে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন—এটি নিশ্চিত করাই হবে সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার যৌথভাবে টহল পরিচালনা করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, নোডাল পয়েন্ট থেকে মোবাইল প্যাট্রলিং, মোবাইল রিঅ্যাকশন টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অতীতের মতো বর্তমানেও দেশের সেবা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’
উল্লেখ্য, দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ওয়ার্ডগুলো হলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড।