গুলিবিদ্ধ হাতের যন্ত্রণায় ঘুম আসে না তামিম হোসাইনের।টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে হাতটি অচল হওয়ার পথে।তামিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে বাঁ হাতে গুলিবিদ্ধ হন। পরিবার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছে তাঁর চিকিৎসার। কিন্তু হাতে লাগা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। গুলি বের করতে হলে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সে জন্য প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা। কিন্তু সেই টাকা জোগান দেওয়া সম্ভব নয় পরিবারের।
তামিম মাদারীপুর সদরের ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী গ্রামের মো. আনোয়ার মাতুব্বরের ছেলে। তিনি মাদারীপুর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র। বাবা আনোয়ার ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে চাকরি করেন।
স্বজনেরা জানান, তামিম ১৮ জুলাই সকালে মাদারীপুর শহরের শকুনি লেকের পাড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী-সমর্থকেরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তাঁরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় তামিমসহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। তামিমের বাঁ হাতের তালু ও একটি আঙুলে গুলি ঢুকে যায়। তাঁকে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা হলেও গুলি দুটি বের করা সম্ভব হয়নি। পরে ঢাকায় সিএমএইচে চিকিৎসা শুরু করে পরিবার।
কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তামিম। তামিমের বাঁ হাতের রক্তনালিতে গুলি থাকায় হাতটি অকেজো হওয়ার পথে উল্লেখ করে তাঁর মা নাজমা বেগম বলেন, ‘সব শেষে ঢাকার সিএমএইচে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। ওর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কয়েকটি সংগঠন কিছু সহযোগিতা দিয়েছে। কিন্তু তা দিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব না। তাই সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে ছেলের হাতটি ভালো হয়ে যেতে পারে। তা না হলে হয়তো চিরদিনের মতো অকেজো হয়ে যাবে।’
আনোয়ার মাতুব্বর বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করি। যা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। সেখানে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা কীভাবে করাব?’
তামিম বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা গুলির সামনে নিজেদের বুক উঁচিয়ে দিয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার এগিয়ে এলে, উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে আমার হাতটি ভালো হয়ে যেত। আমি সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় আহতদের তালিকা করা হচ্ছে। তবে আহতদের সহযোগিতার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’