হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জন্মের পর সুস্থ ছিল, শ্বাসকষ্টে মারা যায় নবজাতকেরা: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজ থেকে ছড়িয়ে পড়া গন্ধে শিশুদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে একে একে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করলেও তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্বজনদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকেই ওয়ার্ডে এসি চলছিল। রাতে হঠাৎ এসি বন্ধ হয়ে গেলে এক ধরনের গন্ধ পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার পর থেকে নবজাতকেরা অসুস্থ হতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। শিশুদের সঙ্গে থাকা বড়রাও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আজ দুপুরে হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ১১ জন মা ও ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। সিজারের পর নিয়মিতভাবেই ওই ওয়ার্ডে মা ও নবজাতকদের রাখা হয়।

তিনি বলেন, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় অনেক সময় রোগী বা স্বজনেরা অতিরিক্ত ঠান্ডার অভিযোগ করে এসি বন্ধ রাখতে বলেন। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

ডা. নাহিদা ইয়াসমিনের ভাষ্য, রাত তিনটার পর দুটি শিশু অসুস্থ বোধ করলে তাদের নিউনেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, শিশুরা ভালো আছে। পরে তাদের আবার ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ভোর ছয়টার পর দায়িত্বরত নার্স ও মায়েরা দেখতে পান শিশুদের অবস্থা আবার খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এরপর ছয় নবজাতককেই নিউনেটাল আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি চার শিশুকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদেরও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের ডিজি ডা. নাহিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, ঘটনাটা হঠাৎ করে ঘটেছে এবং খুব দ্রুত ঘটেছে। ডাক্তাররা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এত বেশি শ্বাসকষ্ট ছিল যে বাচ্চাদের বাঁচানো যায়নি। এটা অনেক বড় কষ্টের ঘটনা। এমন ঘটনা যেন আর কোথাও না হয়, সে জন্য তদন্ত করে কারণ বের করতে হবে।

শুধু গ্যাস লিকেজের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তদন্ত করে দেখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করবেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। এক শিশুর দাদি অভিযোগ করেন, তাঁর নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি জানতে পারেন শিশুটি আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে চিকিৎসকদের উচিত ছিল দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।’

সার্জেন্টের তৎপরতায় ছিনতাই হওয়া গরু-ছাগলভর্তি পিকআপ উদ্ধার, আটক ৩

প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তায় ঈদের ঢাকা

আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: মাতৃত্বের আনন্দ ছাপিয়ে কান্নার রোল

আদ-দ্বীনে ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি গঠন

আশুলিয়ার পশুর হাটে মারামারিতে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ৬ শিশুর মৃত্যু, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

কোনো বাধাই থামাতে পারছে না ঘরমুখী মানুষের স্রোত, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ধুম

মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট: অভিযান চালিয়ে সরিয়ে দিল পুলিশ

মুক্ত আসর ও আমিই নজরুলের আয়োজনে ‘অঞ্জলি লহ মোর’