হোম > সারা দেশ > ঢাকা

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন আরও ৫২

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

বিমানবন্দরে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া ৫২ বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে গত ১২ ও ১৩ জুন আরও ৯১ জন দেশে ফেরেন। এ নিয়ে গত তিন দিনে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম চক্রের কবল থেকে উদ্ধার হয়ে মোট ১৪৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, আগের দুদিনের মতো সোমবারও ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।

ফেরত আসা ভুক্তভোগীরা জানান, বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্রের মাধ্যমে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্র তাদের অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেয়।

সোমবার দেশে ফেরা এক ভুক্তভোগী জানান, স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি টর্চার সেলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় স্ক্যাম সেন্টারের নিয়ন্ত্রকেরা পালিয়ে গেলে তাঁরা মুক্তি পান।

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি দালাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বহু বাংলাদেশিকে সেখানে নিয়ে গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করেছে। তাঁর দাবি, একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মানবপাচার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কম্পাউন্ডে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার প্রতারণায় যুক্ত হতে চাপ দেওয়া হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

এর আগে গত ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন এবং ১৩ জুন আরও ৫৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। একইভাবে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাঁদেরও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে জোরপূর্বক সাইবার জালিয়াতির কাজে নিয়োজিত করা হয়।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ‘কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ফলেই এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। টানা তিন দিনে ১৪৩ জনের দেশে ফেরা প্রমাণ করে যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এই ধরনের প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।’ তিনি জানান, মঙ্গলবারও আরও একটি দল দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

শরিফুল হাসান বলেন, ‘সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে মানবপাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে কোন প্রক্রিয়ায় এসব কর্মীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্পিউটার অপারেটর, কলসেন্টার কর্মীসহ বিভিন্ন পদে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়।

কামরাঙ্গীরচরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আশুলিয়ায় মেয়েকে পাঁচ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

ঢাকার চার বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে সরানোর নির্দেশ

নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করায় সরকারের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের কৃতজ্ঞতা

জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশকে গুলির ঘটনায় আরও একজন গ্রেপ্তার

পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে বর্ষাকে আবাহন

ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলা: অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর

এবার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার তৌহিদ আফ্রিদি

আষাঢ়ের প্রথম দিন, আজ বর্ষা উৎসব