বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরে শোক শোভাযাত্রায় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ারসেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে চারজন পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে বলে দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
আজ সোমবার বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর রাজবাড়ী সড়কে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে নগরীর রাজবাড়ী রোডে বিএনপি কার্যালয়ে সভা শুরু হয়। জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শ্রম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, সদস্য কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মো. হেলাল উদ্দিন, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পেরা প্রমুখ। সভা শেষে নেতা-কর্মীরা শোক শোভাযাত্রা করার জন্য বিএনপি কার্যালয়ে থেকে বের হয়ে রাজবাড়ী সড়কে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়।
এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে বিএনপির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মী ও দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে টিয়ারসেল, শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে মহানগরীর প্রধান সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকান-পাট ও রাজবাড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৪ পুলিশসহ অন্তত ২০ বিএনপি নেতা-কর্মী আহত হয়। এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।
বিএনপি নেতা রিয়াজুল হান্নান জানান, পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে তাদের ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলকর্মী জাকির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি দাবি করেন, পুলিশ অন্তত ১৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
জিএমপি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘ব্যস্ততম রাজবাড়ী সড়কে মিছিল, সমাবেশ করতে নিষেধ করলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে। পরে জানমাল রক্ষায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছোড়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৮-৯ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটক করতে অভিযান চলছে।’