রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুপুরের পর ৪৫ জনকে আদালতে হাজির করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষের আইনজীবী মো. শামসুজ্জামান দিপু ৪৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাঁরা হলেন—মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৮), সৈয়দ আহমেদ শুভ (২৬), মো. শাহজাহান (৩২), অপূর্ব ইসলাম (২২), শরিফুল ইসলাম নিলয় (১৯), মো. জাহিদ হাসান হৃদয় (২৫), মো. শাহেদ ভূইয়া (২০), বুলবুল আহমেদ (২৬), দীপক হাজরা (২৬), মো. মান্না হোসেন (২৫), ইয়াছিন আরাফাত অর্ণব (২৫), মো. আশরাফ উদ্দিন (৩০), মো. শাহজালাল (২৮), মো. শাহিন (২১), মো. নাইম (২১), সাইদুর রহমান (১৯), ইমতিয়াজ আহমেদ হৃদয় (২১), মো. রমজান (১৯), মো. সাব্বির হোসেন (২৪), মো. শাহিন (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম রিফাত (১৯), মো. মঈন হোসেন রাজন (২২), মো. অনিক হোসেন (২৭), মো. তরিকুল ইসলাম (২৪), মো. রিফাত হোসেন (২৩), মো. হানিফ মিয়া (২৫), মো. শাহাদাৎ হোসেন রাব্বি (৩২), মো. যোহানুল হক (২৪) ও মো. তারেক আজিজ (২৮)।
বাকিরা হলেন মো. সাজ্জাদ ইসলাম (১৯), মো. শিপন (২৩), মো. এজাজ হোসেন সিয়াম (২৪), মো. উনায়েস ইমরান (২৪), মো. মনিব আক্তার (২৫), মো. হারিজ (২৮), মো. সাকিবর হোসেন বিজয় (২২), এস এম মতিউর রহমান (৪৮), মো. রাজন শেখ (৫১), মো. আবু সাদিক রাকিব (২৯), মো. মামুন ব্যাপারী (২৪), মো. মজিবুর রহমান (৩২), মো. সালাহ উদ্দিন ব্যাপারী (৪০), মো. আমিনুল ইসলাম নাঈম (২৫), মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) ও মো. আব্দুল্লাহ সবুজ (৩১)।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিটিআরসি ভবনে হামলার সময় ও পরে আশপাশে অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাঁদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিটিআরসি ভবনে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) কার্যকরের প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলন করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিটিআরসি ভবনে হামলা করেন।
এ ঘটনায় আজ শুক্রবার ৫৫ জনকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ।
মামলায় বলা হয়, বাংলাদেশে ফোন ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় নানা দাবিতে আন্দোলন করেছেন। তাঁদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের নিয়ে একাধিকবার তাঁদের দাবিদাওয়ার বিষয় সুরহার জন্য বৈঠক করেছেন। ১ জানুয়ারি এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার) সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।
এতে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ১ জানুয়ারি বিকেলে বিটিআরসি ভবনের সামনে রাস্তায় জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আন্দোলন করতে থাকেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে জনগণের সম্পদ ধ্বংস, কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর করেন। এতে ভবনের কাচের দেয়াল ভেঙে গেছে। আনুমানিক দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া বিটিআরসি ভবনের সামনে রাস্তার ওপর থাকা ৫১ সিটের বিটিআরসির এসি স্টাফ বাস ভাঙচুর করেছেন। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আদালতে আসামিদের আটক রাখার প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বিটিআরসি ভবনে হামলার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের সঠিক নাম, ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাম, ঠিকানা যাচাই এবং উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদদাতাদের তথ্য সংগ্রহ চলমান আছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। পরবর্তী সময় আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের কারাগারে পাঠানো একান্ত প্রয়োজন।