হোম > সারা দেশ > ঢাকা

চকবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও আগুন ধরতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটে আগুন। ছবি: ফায়ার সার্ভিস

পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ১২ থেকে ১৪টি গুদামসহ সাত-আটটি দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১২ থেকে ১৪টি গুদাম থাকা ছয়তলায় আগুন বেশি ছড়ায়। সাততলার কিছু অংশও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানো ও পানি দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, মার্কেটের ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যে গুদামগুলো পরিপূর্ণ ছিল। এসব পণ্যের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় সেগুলো সরিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। মালামাল সরানো না হলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে লালবাগ, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার ও পলাশী থেকে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর ৫টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি বলেন, ছয়তলা ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ ছিল। গুদামগুলো শাটার ও একাধিক তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে গুদামে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের।

অগ্নিকাণ্ডের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে কাজী নাজমুল জামান বলেন, চকবাজারের সরু সড়ক ও যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার ফাইটারদের প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। আশপাশের পানির রিজার্ভারগুলো বারবার খালি হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে। পরে রিজার্ভার পরিবর্তন করে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালানো হয়।

আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা থাকলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আগুন যেন আশপাশের মার্কেট ও ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মার্কেটের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষও পানি সরবরাহ করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশের মার্কেটগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নিহত বা অন্য কারও আহত হওয়ার খবর তাঁদের কাছে নেই।

গুদামে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেগুলো ব্যবহার করে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুনের ধরন বিবেচনায় এটি সলিড ফায়ার হওয়ায় পানি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি বা পেট্রোলজাতীয় পদার্থে আগুন লাগলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফোম ব্যবহার করা হতো।

আরও পড়ুন: