বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ তাঁকে জামিন দেন।
দুপুরের দিকে ছরওয়ারে আলমকে আদালতে হাজির করে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খন্দকার সালেহ্ আবু নাঈম তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ছরওয়ারে আলম তাঁর ই-মেইল ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) হ্যাক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করে তা যাচাই-বাছাই চলছে। এগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া চলছে। ছরওয়ারের নাম-ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
এদিকে ছরওয়ারের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। বাদীপক্ষে জামায়াতপন্থী আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক জামিনের বিরোধিতা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বিকেলের দিকে শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে তাঁর জামিনের আদেশ দেন।
আদালতের হাতিরঝিল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আরিফ রেজা জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে জিডির সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে। পরে একই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় গতকাল বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম হাতিরঝিল থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বলা হয়, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি শাখা) মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বেআইনিভাবে ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীবিদ্বেষী, অশ্লীল ও উসকানিমূলক কনটেন্ট পোস্ট করে। এসব পোস্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা, জাতিগত সহিংসতা ও দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে অল্প সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা এক্স অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। উক্ত এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক হওয়ার বিষয়ে বাদী হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মামলায় আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলসহ একাধিক শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের আমিরের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ১৭, ১৮, ২৫, ২৬ ও ২৭ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতৃত্ব ও কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তাঁরা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’
এই পোস্টের প্রতিবাদে বিএনপি তীব্র নিন্দা জানায়। ছাত্রদল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং নারীদের একটি দল ঝাড়ুমিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। পরে পোস্টটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতেই হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম।