ঢাকা জেলার দোহারে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সে সঙ্গে আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে দণ্ডিত জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আরও চার মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজা পাওয়া ব্যক্তি হলেন ইকবাল শেখ (৪৮)। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার ডাইয়া গজারিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। তবে ইকবাল শেখ পলাতক রয়েছেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. মেহেদি-আল-শামীম। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছেন—আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছেন। এ কারণে আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।
আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেন, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর অথবা দেশের কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের পর এই রায় কার্যকর হবে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগীর মা রান্না করছিলেন। এ সময় আসামি ইকবাল সুযোগ পেয়ে ঘরে ঢুকে ১৩ বছরের কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৬ আগস্ট দোহার থানায় ভুক্তভোগীর মা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে দোহার থানার এসআই মো. আব্দুল গনি ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মামলার এজাহারকারী, চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।