উৎপাদন সচল রাখতে নতুন সরকারের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা ফেরত চেয়েছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ)। তারা বলছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি, নতুন সরকারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চাই। তবে বকেয়া না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা খুবই কঠিন। সেই সঙ্গে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস বকেয়া থাকায় এখন নতুন করে জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি খোলা যাচ্ছে না বলেও সতর্ক করে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা। তবে তাদের এমন ভাষ্য ইতিমধ্যেই সরকারের কানে গেছে।
সংগঠনটির সভাপতি ইমরান আরও বলেন, ‘বকেয়ার কারণে ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক কোম্পানি ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে পারছে না। আমরা যদি তেল আমদানি করতে না পারি, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কী করে? বিদেশি কোম্পানির বিল ঠিকই দেওয়া হয়েছে, অথচ আমরা দেশীয় উদ্যোক্তারা বকেয়া পাচ্ছি না। এটা চরম বৈষম্য। আমরা নতুন সরকারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চাই। তবে সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে যদি সমন্বয় না হয়, তাহলে কতক্ষণ সম্ভব হবে? এক সময়তো ব্যাংকও আমাদের এলসি দিতে চাইবে না।’
বকেয়া না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে মালিকদের এক মন্তব্যের জবাবে নতুন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, এমনটি করা হলে তা হবে নতুন সরকারকে ব্ল্যাকমেল করার শামিল।
মন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিষয়ে বিআইপিপিএর সভাপতি এম রেজাউল হাসনাত বলেন, বকেয়ার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র না চালাতে পারার বিষয়টি নতুন সরকারের কাছে ব্ল্যাকমেল মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এটা সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা নয়। যে কোনো ভাবে উৎপাদন ধরে রাখতে চেষ্টা করে হচ্ছে। তাও পরিস্থিতি সরকারকে জানিয়ে রাখা হচ্ছে। ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খুলতে না পারায় তেল কেনা যাচ্ছে না, এটাই সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রেজাউল হাসনাত বলেন, গত জুলাইয়ের পর থেকে বিল পরিশোধ কমিয়ে দেওয়া হয়। বিল না দিয়ে উল্টো তারা জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, যাতে নতুন সরকারের সময় লোডশেডিং নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। একই বিষয় নিয়ে বিদেশি ও দেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পিডিবির চুক্তির আলোকে বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ দিতে না পারা অনেক কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে। সেই জরিমানা সমন্বয় করতে এভাবে বকেয়া রাখা হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে যাবেন। কারণ একই সময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারও বিল পরিশোধ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো কেন্দ্র বিদ্যুৎ দিতে না পারে, তাহলে সে জন্য জরিমানা করাটা অযৌক্তিক।
ফার্নেস তেলভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রগুলোতে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমুদয় বকেয়া প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।