মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চাঠাতিপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ইউসুফ শেখ ও ছেলে পলাশকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের চাঠাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জড়িপ শেখ (৬৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জড়িপ শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম দুধ কিনতে ইউসুফ শেখের ভাই ইদ্রিস শেখের বাড়িতে যান। এ সময় গরুর গোবর ফেলা নিয়ে ইদ্রিস শেখ ও ইউসুফ শেখের পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে ফাতেমা বেগম ইউসুফ শেখ ও তাঁর ছেলে পলাশকে এ নিয়ে ইদ্রিস শেখকে বকাঝকা না করার জন্য বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পলাশ ফাতেমা বেগমকে ইট দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত হন। পরে বাড়িতে ফিরে তিনি স্বামী জড়িপ শেখকে বিষয়টি জানান।
জড়িপ শেখ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ফাতেমা বেগমকে মারধরের কারণ জানতে ইউসুফ শেখের বাড়িতে যান। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে ইউসুফ শেখ ও তাঁর ছেলে পলাশ দা, বঁটি ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইউসুফ শেখ ধারালো কুড়াল দিয়ে জড়িপ শেখের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ইউসুফ শেখ ও তাঁর ছেলে পলাশকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যাপারী বলেন, ‘জড়িপ শেখ তার স্ত্রীকে মারধরের বিষয়ে জানতে আমাকে ও আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ইউসুফ শেখের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে ইউসুফ ও তার ছেলে দা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। ইউসুফ শেখ কুড়াল দিয়ে জড়িপ শেখের মাথায় আঘাত করলে তিনি নিহত হন।’
টঙ্গিবাড়ী থানার এসআই মো. ওসমান বলেন, এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।