সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ এই আদেশ দেন। এর আগে গতকাল সোমবার এ মামলায় গ্রেপ্তার জহুরুলকে (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
আজ যাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন মো. আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. গোলাম রাব্বি (২২), বিল্লাল (৩৪) এবং দেলোয়ার হোসেন (৩৩)। তাঁদের মধ্যে প্রথম ছয়জনকে পাঁচ দিন এবং অন্য দুজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আদালতের সাভার থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড শুনানি উপলক্ষে আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে সাভার থানা-পুলিশ। প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই মো. জাকির আল আহসান। গত দুই দিনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীরা পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যান। এই আসামিদের গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে তাঁদের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোগ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। সেই কথা-কাটাকাটি থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন এসবি সদস্য মো. আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।
মামলায় আরও বলা হয়, আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া তারা ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরি করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক এসবি সদস্য আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত আলতাফের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন সাভার থানায় হত্যা মামলাটি করেছেন।
আরও পড়ুন: