পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানী ঢাকায় প্রায় ১২ লাখ গবাদিপশু জবাই করা হয়। এসব পশু বর্জ্যের মধ্যে ২১ লাখ টন আসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকা থেকে। এবারও একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএনসিসি। এ জন্য প্রায় ১৬ হাজার কর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির এসব কর্মী ঈদের তিন দিনে মাঠপর্যায়ে বর্জ্য অপসারণে কাজ নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির থাকছে কেন্দ্রীয় ও জোনভিত্তিক সমন্বয় বা তদারক সেল।
ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, গত বছর ঈদুল আজহায় মোট ২০ হাজার ৮৮৯ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ওই বছর ঈদের দিন অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬১৬ টন, পরদিন ৭ হাজার ৩৫৩ টন এবং তৃতীয় দিনে ২ হাজার ৯২২ টন। এ বছরও প্রায় একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংস্থার উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ডিএনসিসি এলাকার কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণ কাজে সংস্থার নিজস্ব সাড়ে ছয় হাজার বর্জ্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকবেন। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত সাড়ে চার হাজার কর্মী সরাসরি মাঠে কাজ করবেন।
এ ছাড়া রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০ জন করে মোট সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি ও মনিটরিং করবেন। সব মিলিয়ে ঈদের দিন থেকে বর্জ্য অপসারণ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রায় ১৬ হাজার জনবল নিয়োজিত থাকবে।
ঈদের দিন দুপুরে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি।
পশুর রক্ত অপসারণের পর জীবাণুনাশকের অংশ হিসেবে ছিটানোর জন্য ২৫ কেজির ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহারের জন্য ভাড়ায় সংগৃহীত ৪০৫ টি, ডিএনসিসির নিজস্ব ২৬১টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৬ টিসহ মোট ৭৫২টি পরিবহন যান মাঠে থাকবে। ট্রাক, ডাম্পার, পে-লোডার, পানির গাড়িসহ প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে প্লট-২৩-২৬, সড়ক-৪৬, গুলশান-২, নগর ভবনে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর: +৮৮০২৫৫০৫২০৮৪,১৬১০৬।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ৫৪টি ওয়ার্ডে এক হাজার মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সঠিকভাবে জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে খুতবায় সচেতনতা বার্তা প্রচার, র্যালি, টেলিভিশন-রেডিও-পত্রিকা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পশুর হাটের বর্জ্য ও কোরবানি করা পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং রাস্তা ধোয়ার জন্য ১ হাজার ৫৪৬টি বেলচা, ১ হাজার ২৮৪টি টুকরি, ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার (২৫ কেজির বস্তা), ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল (১ লিটার ক্যান), ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন (১ লিটার ক্যান) এবং ১৬ লাখ ৩০ হাজার পিস বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ৪৩টি পে-লোডার, ২টি টায়ার ডোজার, ৯টি বেকহো-লোডার, ৬টি স্কিড-লোডার, ৭টি চেইন ডোজার, ৯টি চেইন এক্সকাভেটর, ২টি কম্পেকশন ডোজার, ৬টি রোড সুইপার, ২টি জেট অ্যান্ড সাকার, ৫৮টি কম্পেক্টর ট্রাক, ৩২টি কনটেইনার ক্যারিয়ার, ৫টি আর্মরোল ক্যারিয়ার, ২২০টি ডাম্প ট্রাক, ১০টি খোলা ট্রাক, ৩২৯টি পিকআপ, ১০টি পানির গাড়ি এবং ২টি স্প্রে-ক্যাননসহ মোট ৭৫২টি যান যন্ত্রপাতি বর্জ্য অপসারণ কাজে ব্যবহার করা হবে।
কোরবানির তিন দিন আগে থেকেই মনিটরিং জোরদারে ১০টি জোনে ১০টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোরবানির এক দিন আগে পশু জবাইয়ের স্থান প্রস্তুত ও বর্জ্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ল্যান্ডফিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, ডিএনসিসি এলাকায় একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী হাট ছাড়া আরও ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা প্রদান করা হয়েছে। হাটগুলোতে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিবহন নির্বিঘ্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একযোগে কাজ করছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও কোরবানির প্রতিটি ধাপকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে একাধিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্যমুক্ত শহর উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।