রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় সুমাইয়া নুর তাকওয়া (৮) নামে আরও এক শিশু নিহত হয়েছে। নানির কাছে আবদার করে ললিপপ (চকলেট) কেনার টাকা নিয়ে দৌড়ে রাস্তা পাড় হতে গেলে দ্রুতগতির অটোরিকশা ধাক্কা দেয় শিশুটিকে। এরপর হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও শেষ রক্ষা হয়নি।
আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কদমতলির রায়েরবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনেরা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বাসার সামনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় জান্নাতি (৫) নামে আরেক শিশু নিহত হয়েছে। তার বাবা দিনমজুর ও মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
এ দিকে ঢামেকে আসা শিশু তাকওয়ার নানি মর্জিনা বেগম জানান, তাকওয়া তাঁর মেয়ের দ্বিতীয় সন্তান। মেয়ে কান্তা আক্তার স্বামী ও তিন মেয়েসহ সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় থাকেন। স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত তাকওয়া।
মর্জিনা বেগম জানান, তার নিজের বাসা কদমতলীর রায়েরবাগ বাজার এলাকায়। আজ সকালে ৩ মেয়েকে নিয়ে কান্তা আক্তার তাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। বিকেলে সবাই ঘুরতে বের হন। ফেরার সময় বাসার কাছে আসতেই তার কাছে ললিপপ (চকলেট) খাওয়ার আবদার করে নাতনি তাকওয়া। তিন নাতনির জন্য তিনটি ললিপপ কিনতে দৌড়ে রাস্তা পাড় হতে যায় তাকওয়া। এমন সময় একটি দ্রুতগতির অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হয়।
দ্রুত তাকে স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢামেকের চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে শিশুটি মারা গেছে বলে জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য কদমতলি থানায় জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অটোরিকশার চাপায় নিহত শিশু জান্নাতিকে হাসপাতালে নিয়ে তার আসা খালা ও প্রতিবেশী জানান, ঘটনার সময় বাসার সামনের গলিতে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল জান্নাতি। তার মা বাসার ভেতরে ঘরের কাজ করছিলেন। তখন আরেক শিশু জান্নাতিকে অচেতন অবস্থায় কোলে করে বাসার ভেতর নিয়ে যায়। সে জানায়, গলিতে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা জান্নাতির ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়েছিল। রিকশাচালক পালিয়ে গেছে।