রাজধানীর সড়ক দখল করে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, কাকরাইলের মোড় থেকে সদরঘাট এবং মিরপুর রোড থেকে নিউমার্কেট হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কে কোনো হকার বসতে পারবেন না। নির্ধারিত কিছু জায়গায় ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হলেও শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে সেই সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকার উচ্ছেদের সুফল দেখা যাচ্ছে। রাস্তার অনেক জায়গায় কিছু হকার ছাড়া অন্যরা বসছেন না। কাকরাইলের মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এবং মিরপুর রোড থেকে নিউমার্কেট হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দুই সড়কের কিছু জায়গায় মানুষের চলাচলের সুযোগ বিবেচনায় ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশে হকারদের বসতে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা জায়গা পরিষ্কার না রাখলে ফুটপাতেও বসতে দেওয়া হবে না।
সচিবালয়ের উল্টো দিকেও হকারদের বসতে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তিন দিন ধরে তাঁদের সরে যেতে বলা হচ্ছে। এর আগে রাতেও সেখানে গিয়ে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সচিবালয় সংরক্ষিত ও নিরাপত্তা সংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় সেখানে হকার বসতে দেওয়া যাবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মালামাল জব্দসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, নগরবাসীর স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হকারদের সঙ্গে আলোচনা করেই সড়ক খালি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কাকরাইল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে বসবেন না। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ফুটপাতের যে অংশে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
হকারদের কাছ থেকে লাইনম্যান বা চাঁদাবাজদের টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। কোনো লাইনম্যান বা চাঁদাবাজির বিষয়ে আপনাদের কাছে তথ্য থাকলে আমার কাছে নিয়ে আসবেন।’
আবদুস সালাম আরও বলেন, চাঁদাবাজ বা লাইনম্যান বলতে কিছু থাকবে না। হকাররা সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করবেন। তাঁদের লাইসেন্স দেওয়া হবে, পরিচিতির জন্য নম্বর দেওয়া হবে। পূজা শেষ হলে লাইসেন্সধারী ভেন্ডর বা হকার ছাড়া ঢাকা শহরে আর কেউ বসতে পারবেন না।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম। তবে আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের ফিরে আসার চিত্র দেখা গেছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে ডিএসসিসি। ওই অভিযানে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর আবারও অভিযান চালানো হয়।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায়, পল্টন মোড় থেকে শুরু করে সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে আবারও দোকান নিয়ে বসেছেন হকাররা। জিরো পয়েন্ট এলাকার বিভিন্ন মোড়েও তাঁদের অবস্থান দেখা যায়। কয়েকজন হকারকে দোকান বন্ধ করে পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।
হকাররা জানান, কয়েক দিন ধরে পুলিশ নিয়মিত তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।