ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগতে থাকা সত্তরোর্ধ্ব মোক্তার আলী কয়েক মাস ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আজ সোমবার দুপুরে শেরপুর থেকে ঢাকা এসেছেন ডায়ালাইসিস নিতে। কিন্তু হাসপাতালে এসে পড়েছেন চরম বিপাকে। হাসপাতালের হেমোডায়ালাইসিস বিভাগ ছয় তলায়, সেখানে উঠতে প্রয়োজন লিফট। কিন্তু গত চার দিন ধরে তা নষ্ট। ফলে ছেলে, নাতি, স্ত্রী ও হাসপাতালের কর্মচারীদের সহায়তায় স্ট্রেচারে করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে নেওয়া হচ্ছে মোক্তার আলীকে।
কিডনি সমস্যায় ভোগা সোহরাব হোসেন এক সপ্তাহ আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হোন। বর্তমানে হাসপাতালের নিচ তলায় বারান্দায় চিকিৎসাধীন। ডায়ালাইসিসের জন্য ছয় বৃদ্ধ বাবা আর ফুপাতো ভাইয়ের কাঁধে ভর করে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন নরসিংদীর সোহরাব।
সোহরাবের ফুপাতো ভাই আমিনুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চার দিন ধরে লিফট নষ্ট। এমনিতেই কিডনি সমস্যা, এর মধ্যে হৃদ্রোগের রোগী, ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটা লিফট মেরামত হতে এত দিন লাগে? আর এত রোগী এখানে কিন্তু লিফট মাত্র একটি। যারা স্ট্রেচার নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাঁরা সরকারি হাসপাতালের বেতনভুক্ত কর্মচারী হলেও দু’শ টাকা করে নিচ্ছেন। যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের নিজ উদ্যোগে সহায়তা করার কথা, সেখানে উল্টো টাকা দিতে হচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই।’
হেমোডায়ালাইসিস ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. শফিউল হক শিহাব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যেখানে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে আমারই সমস্যা হচ্ছে, সেখানে রোগীদের অবস্থার কথা নাইবা বললাম। কর্তৃপক্ষ লিফট দ্রুত ঠিক করার চেষ্টা করছেভ। আশা করা যায় দুয়েক দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। দূর-দুরান্ত থেকে আসা এসব রোগীদের দুর্ভোগ দ্রুত যাতে শেষ হয়, সংশ্লিষ্টরা সেই ব্যবস্থা নেবেন আশা করি।’
লিফট অকেজ হওয়ার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘গত শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঠিকমতো চলছিল লিফট। বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই ছিঁড়ে যায়। এতে করে আটকে পড়েন কয়েকজন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে লিফটের দরজা কেটে ভেতরের লোকজনকে উদ্ধার করেন। তবে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আরও চারটি লিফট যুক্ত করা হচ্ছে। মাসখানিক সময় লাগবে। এর মধ্যেই অন্তত দুটি চালু হবে।’
কর্মচারীদের টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ দিয়েছিল, ব্যবস্থা নিয়েছি। নতুন করে নেওয়ার কথা না, নিয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেব।’