সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের গাড়িচালক মো. চান মিয়া এবং কেয়ারটেকার মো. মহিদুল ইসলামকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলাম রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
আজ চার দিনের রিমান্ড শেষে দুজনকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার প্রত্যেককে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৪ এপ্রিল এই মামলায় দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় দুজনকেই। তার আগে ২০ এপ্রিল প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাঁদের। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের তৃতীয় দফায় রিমান্ড দেওয়া হলো।
১৯ এপ্রিল মহিদুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইসলামবাগ এলাকা থেকে এবং চান মিয়াকে রাজধানীর ভাষানটেক এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে হাজির করে ডিবি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এই ঘটনায় তাঁর শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশনা তারিক সিদ্দিকের মাধ্যমে পেয়ে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতেন। তাঁরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর দমনপীড়ন, মারধর ও হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনবিরোধী পক্ষের কাছে তারিক সিদ্দিকের পক্ষ থেকে অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছে দিতেন।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য তাঁদের আরও রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন।